স্টাফ রিপোর্টার:
বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের প্রার্থী নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার চেয়ে তার স্ত্রী গৃহিণী মেহের নিগারের আয় ও সম্পদ বেশি। মান্নার বাৎসরিক আয় সাড়ে নয় লক্ষাধিক টাকা ও সম্পদ ৩০ লক্ষাধিক টাকার। স্ত্রীর আয় সাড়ে ১০ লক্ষাধিক টাকা এবং সম্পদ ৬৮ লক্ষাধিক টাকার। এমনকি তার নামে কোনো মামলা নেই বলে জানা গেছে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দাখিল করা মনোনয়নপত্রের হলফনামা বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার বাবার নাম মৃত আফসার উদ্দিন। স্ত্রী গৃহিণী মেহের নিগার। শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক পাশ। পেশা ব্যবসা। বয়স: ৭৪ বছর। বাড়ির ঠিকানা: বাড়ি ১৯, এপার্টমেন্ট-এ-১, রাস্তা-১০২, গুলশান-১২১২, ঢাকা সিটি করপোরেশন, ঢাকা।
মাহমুদুর রহমান মান্নার নামে কোনো ফৌজদারি বা অন্য কোনো মামলা নেই।
নির্ভরশীলের (স্ত্রী) নামে শেয়ার সঞ্চয়পত্র আছে চার লাখ ৪১ হাজার ২০৭ টাকার। স্ত্রী বাড়ি ভাড়া বাবদ পান ছয় লাখ ১২ হাজার ৫০০ টাকা। নিজের নগদ অর্থ আছে পাঁচ লাখ ৩৭ হাজার ১৫৯ টাকা। স্ত্রীর নগদ অর্থ আছে ২৭ লাখ ৩০ হাজার ৩৯৭ টাকা। স্ত্রীর সঞ্চয়পত্র/স্থায়ী আমানত আছে ৩৮ লাখ টাকার। মান্নার নিজ নামে থাকা যানবাহনের মূল্য তিন লাখ ৮০ হাজার টাকা। স্ত্রীর নামে থাকা স্বর্ণালংকারের মূল্য দেড় লাখ টাকা। নিজের নামে ইলেকট্রিক পণ্য আছে ৬০ হাজার টাকা মূল্যের ও স্ত্রীর নামে আছে, ৫০ হাজার টাকা মূল্যের। মান্নার নিজের নামে থাকা আসবাবপত্রের মূল্য ৫০ হাজার টাকা ও স্ত্রী এক লাখ ২০ হাজার টাকা।
উপরোক্ত অস্থাবর সম্পদের অর্জনকালীন ও বর্তমান মূল্য ১০ লাখ ২৭ হাজার ১৫৯ টাকা। স্ত্রী মেহের নিগারের উপরোক্ত অস্থাবর সম্পদের মূল্য ৮১ লাখ ৩৯৭ টাকা এবং এর বর্তমানে মূল্য এক কোটি ১২ লাখ ৩৯৭ টাকা।
স্থাবর সম্পদের মধ্যে মাহমুদুর রহমান মান্নার একটি বাড়ি আছে যার মূল্য ১৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা। অন্যান্য সম্পদ ১০ শতকের মূল্য ১০ লাখ টাকা। তার উপরোক্ত স্থাবর সম্পদের মূল্য ২৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা। যার বর্তমান মূল্য দুই কোটি টাকা।
মাহমুদুর রহমান মান্নার কোনো দায় ও সরকারি পাওনা নেই। ইসলামী ব্যাংক বাংলাদশ লিমিটেডে ২২ কোটি টাকার ঋণ রয়েছে। যা গত ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর পুন:তফশিলীকরণ হয়েছে। রহমান মান্না সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে আয়কর রিটার্নে মাসিক বাৎসরিক আয় দেখিয়েছেন, নয় লাখ ৬৮ হাজার টাকা এবং সম্পদের পরিমাণ ৩০ লাখ ৩৯ হাজার ৭৪২ টাকা। তিনি আয়কর দিয়েছেন, ৫৫ হাজার ২০০ টাকার। আয়কর রিটার্নে তার স্ত্রীর বাৎসরিক আয় ১০ লাখ ৫৩ হাজার ৭০৭ টাকা, এবং সম্পদ ৬৮ লাখ ৭৮ হাজার ১২৭ টাকার। তিনি (স্ত্রী) আয় কর দিয়েছেন, ৪৪ হাজার ২১৪ টাকা।
এদিকে বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের প্রার্থী মাহমুদুর রহমান মান্নার মনোনয়নপত্রের হলফনামায় অসংগতি থাকায় গত ২ জানুয়ারি যাচাইবাছাইকালে বগুড়া জেলা প্রশাসক ও নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা তৌফিকুর রহমান তার মনোনয়ন বাতিল করেন।
রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেন, প্রার্থী মাহমুদুর রহমান মান্নার হলফনামায় নানা অসংগতি রয়েছে। তিনি হলফনামায় ফৌজদারি মামলার কোনো তথ্য দেননি। হলফনামায় যে এফিডেভিট দিয়েছেন, তা সম্পাদনের এক দিন পর তিনি স্বাক্ষর করেছেন। তিনি সম্পদ বিবরণীর ফরম দাখিল করেননি।
এদিকে গত ১১ জানুয়ারি দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত আপিল শুনানিতে তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়।
কমিশন জানায়, মামলা নিষ্পত্তি থাকায় তার আপিল মঞ্জুর করা হলো।
মান্নার আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব বলেন, মান্নার নামে দুটি মামলা ছিল। সেটি ফাইনাল রিপোর্ট হয়েছে। সুতরাং তিনি কখনো অভিযুক্ত হননি।
মাহমুদুর রহমান মান্না তার হলফনামায় কোনো দায় ও সরকারি পাওনা নেই উল্লেখ করেন। ইসলামী ব্যাংক বাংলাদশ লিমিটেডে ২২ কোটি টাকার ঋণ রয়েছে। যা গত ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর পুন:তফশিলীকরণ হয়েছে। এ পুন:তফশিলীকরণ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠে।
বগুড়ার শিবগঞ্জের কিচকে আফাকু কোল্ড স্টোরেজের চেয়ারম্যান মাহমুদুর রহমান মান্না। এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক পলাতক আওয়ামী লীগ নেতা এবিএম নাজমুল কাদির চৌধুরী ও তার স্ত্রী পরিচালক ইসমত আরা। ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কাদির চৌধুরী বিরুদ্ধে নয়টি হত্যাসহ বিভিন্ন মামলা হলে তিনি স্ত্রীকে নিয়ে আমেরিকা পালিয়ে যান। এরপরও তাদের উপস্থিতি দেখিয়ে ভুয়া স্বাক্ষরের মাধ্যমে খেলাপি ঋণ পুন:তফসিল করা হয়।
এ ব্যাপারে বগুড়া শেরপুরের খানপুর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের ব্যবসায়ী মিল্লাত হোসেন মান্নার বিরুদ্ধে অবকাশকালীন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে মামলা করেন। বিচারক এ ব্যাপারে তদন্ত করতে দুদক বগুড়া কার্যালয়ের কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। মান্না তার মনোনয়নপত্রে এসব কথা এড়িয়ে গেছেন।
বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে মাহমুদুর রহমান মান্নান শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী মীর শাহে আলম ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবুল আজাদ মোহাম্মদ শাহাদুজ্জামান।




